মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৬ মার্চ ২০১৯

আজ (২৬ মার্চ, ২০১৯) দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভার শুরুতেই দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ মহান মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লক্ষ বীর শহীদ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা এবং সর্বোপরি বাংলাদেশ সৃষ্টির মহান আন্দোলনে যারা অংশগ্রহণ করেছেন তাদের প্রতি গভীর ও বিনম্র শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন।


প্রকাশন তারিখ : 2019-03-26

 

আজ (২৬ মার্চ, ২০১৯) দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভার শুরুতেই  দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ মহান মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লক্ষ বীর শহীদ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা এবং সর্বোপরি বাংলাদেশ সৃষ্টির মহান আন্দোলনে যারা অংশগ্রহণ করেছেন তাদের প্রতি গভীর ও বিনম্র শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন।


এসময় দুদক চেয়ারম্যান কমিশনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন আসুন, আমরা সম্মিলিতভাবে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে দুর্নীতি দমন ও নিয়ন্ত্রণে আত্মনিয়োগ করে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন এবং দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে অংশগ্রহণ করি। 

 

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অনেক সমস্যার মধ্যে আমিত্ত্বও একটি বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। আমিই বড়, আমিই শ্রেষ্ঠ  এই মানসিকতা পরিহার করতেই হবে। যে যেখানে আছেন, সে সেখানে নিজেকে রাজা মনে করবেন, এটা হতে পারে না। বরং যে যত বড় দায়িত্বে রয়েছেন তার আচরণ ততোধিক নমনীয় হওয়া সমীচীন।  


তিনি বলেন দুর্নীতি দমন কমিশনে আমরা যারা কাজ করি তারা প্রত্যেকই একই সঙ্গে একই সমতলে অবস্থান করি। ভুল করলে তা স্বীকার করার মানসিকতাও থাকতে হবে। আমরা সবাই যদি ভুল স্বীকার করার মানসিকতা পোষণ না করি কিংবা আমিত্ব পরিহার না করি তাহলে এই দেশ এই জাতি এগোবে না। শিশুদের পাঠ্যবইয়ের উদ্ধৃতি করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন,  “আমার বই” কিংবা  “ আমার পতাকা” এজাতীয় শব্দচয়ন না করে “আমাদের বই” কিংবা “আমাদের পতাকা” লিখলে হয়তো শিশু হৃদয়ে আমিত্বের বীজ অঙ্কুরিত নাও হতে পারতো। 


তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতিরোধ অনুবিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ২৭ হাজার সততা সংঘ এবং ২ হাজার সততা ইউনিট গঠন করার মাধ্যমে আপনাদের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে। এখন প্রতিটি সততা সংঘ ও সততা স্টোরের কার্যক্রম আপনাদেরকে নিবিড়ভাবে মনিটরিং করতে হবে। কারণ আজকের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিবে , তাই তাদের আচরণে-মননে সততা ও নৈতিকাতার যে অমূল্য মূল্যবোধ জাগরিত হচ্ছে তা বিকশিত করতে হলে এসকল কার্যক্রম মনিটরিংয়ের কোনো বিকল্প নেই। 


তিনি বলেন , দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুসারে কমিশনের একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিধি রয়েছে। কমিশন এই কর্মপরিধির বাইরে গিয়ে একটি কাজও করবে না।

 

 তিনি বলেন প্রতিটি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অহংবোধ (ঊমড়রংস) থেকে বেরিয়ে আসতেই হবে, তা না হলে  সংস্থাগুলোও এগোবে না , দেশও এগোবে না। আমি প্রথম থেকেই বলে আসছি প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কর্মীই সমগুরুত্বের। মহান স্বাধীনতা দিবসের এই আনন্দঘন মুহুর্তে আসুন, আমরা সম্মিলিতভাবে দুর্নীতি দমন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় একই সমতলে থেকে নিজ নিজ দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করি। তাহলেই মুক্তিযোদ্ধদের প্রতি সঠিক সম্মান প্রদর্শন করা হবে এবং স্বাধীনতা দিবস পালনের সার্থকতা থাকবে।


এসময় দুদক কমিশনার ড. মোঃ মোজাম্মেল হক খান বলেন, “আপনি আচরি  ধর্ম, পরেরে শেখাও--- ” এই নীতি মেনে আমরা যদি আমাদের অর্ন্তদৃষ্টি , আচরণ এবং দৃষ্টিভঙ্গিকে সমন্বিত করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে উচ্চকিত হই, তবেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের  স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ করা সহজ হবে।


কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমরা যেন আমাদের কর্মে চর্চা করি এবং সবাই মিলেমিশে দেশ গঠনে কাজ করি।
আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখে দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখ্ত, মহাপরিচালক (মানিলন্ডারিং) আনম আল ফিরোজ, ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মোঃ আকতার হোসেন, পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন, উপপরিচালক মোঃ আবুল হোসেন প্রমুখ। 


এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহাপরিচালক (তদন্ত) মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, মহাপরিচালক (লিগ্যাল) মোঃ মঈদুল ইসলাম, মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) সারোয়ার মাহমুদ, মহাপরিচালক (বিশেষ তদন্ত) সাঈদ মাহবুব খানসহ পরিচালক, উপপিরচালকসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ।


Share with :

Facebook Facebook