মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১১ মার্চ ২০১৯

আজ (১১/০৩/২০১৯) দুর্নীতি দমন কমিশন, প্রধান কার্যালয়, ঢাকা'য় বিশিষ্ট সাংবাদিকবৃন্দের সঙ্গে 'দুর্নীতি দমন কমিশনের কৌশলপত্র-২০১৯' বিষয়ে ‘মতবিনিময় সভা’ অনুষ্ঠিত হয়।


প্রকাশন তারিখ : 2019-03-11

 

আজ দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে নেতৃস্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দের  সঙ্গে  “কমিশনের কৌশলপত্র -২০১৯”  এর ওপর এক মতবিনিময় সভায় দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুদক গণমাধ্যমসহ সকল অংশীজনদের মতামতের গুরুত্ব দিয়ে কমিশনের কর্মকৌশলে এর প্রফিলন ঘটাতে চায়। 


 

আলোচকদের বক্তব্যের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, স্থানীয়ভাবে সরকারি কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সংবেদনশীল করো তোলার জন্য কমিশন দেশব্যাপী গণশুনানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গণশুনানি টিআইবি, বিশ্বব্যাংক, জাইকা এবং কমিশনের নিজস্ব অর্থায়নে সম্পন্ন হচ্ছে জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ঢাকাতেও একইভাবে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক গণশুনানির ব্যবস্থা করার বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনা করা হচ্ছে। 


তিনি ২০১৮ সালের কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে এক মন্তব্যের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, কৌশলগত কারণেই ঐ বছর কমিশনের কার্যক্রম কিছুটা স্তিমিত ছিল। নিরীহ জাহালম প্রসঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এ বিষয়টি যেহেতু উচ্চ আদালতে বিচারাধীন তাই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না, তবে সালেকের জায়গায় কীভাবে জাহালম আসামি হলেন, এ বিষয়ে কমিশন অভ্যন্তরীণভাবে জেলা জজ পদমর্যাদার এক জন কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্ত করছে। এই রিপোর্ট পেলেই সবকিছু জানা যাবে। আমি প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে ঘটনার জন্য গণমাধ্যমের মাধ্যমে দুঃখ প্রকাশ করেছি। এমনকি আমি বলেছি আমরা লজ্জিত।


তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পুলিশ অনেক প্রশংসার কাজ করছে। পুলিশের সাথে কমিশনের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে, তারা আমাদের সকল কাজের সহযোগিতা করছে। তবে একথাও ঠিক তাদের বিভিন্ন স্তরের বেশ কিছু কর্মকর্তার দুর্নীদির অভিযোগের অনুসন্ধান বা তদন্ত  চলছে ।


তিনি বলেন Demographic Dividend পেতে হলে সক্ষম এবং যুগোপযোগী মানবসম্পদের প্রয়োজন। সম্মানিত শিক্ষকগণই মানবসম্পদ গঠনের কারিগর। শিক্ষকদের কাছে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জিম্মা রেখেছি। তারাই আমাদের ভবিষ্যতের জিম্মাদার। সক্ষম মানবসম্পদের অভাবেই বিলিয়ন-বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে যাচ্ছে। তাই কমিশন আইনি পরিকাঠামোর মধ্য থেকেই শিক্ষার ব্যাপারে অধিকতর গুরুত্ব দিচ্ছে। 


তিনি বলেন ব্যাংকের দুর্নীতি নিয়ে অশেষ আলোচনা হচ্ছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের। তারা যদি সময় মতো নিরীক্ষা ও পরিদর্শন কার্যক্রম সম্পন্ন করেন তাহলে অনেক ক্ষেত্রেই দুর্নীতি অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব।


তিনি বলেন বিগত তিন বছরে কমপক্ষে ১২০ জন ব্যাংক কর্মকর্থা-কর্মচারীকে আইন আমলে আনার জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে। এই তালিকায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ অনেক উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও ছিলেন। তিনি বলেন  বিগত তিন বছরে ৬ থেকে ৭ হাজার কোটি নগদ টাকা দুদকের কারণেই বিভিন্ন ব্যাংকে জমা হয়েছে।
বেতন বাড়ানোর সাথে দুর্নীতির বিষয়টি সম্পৃক্ত হতে পারে , তবে খুব বেশি সম্পৃক্ত নয় জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, বিদ্যমান দুর্নীতির মূলে রয়েছে লোভ, অভাবের কারণে এখন খুব বেশি একটা দুর্নীতি হয় না।  তাই আমি রুপক অর্থেই বলেছিলাম লোভের জিহ্বা কাটতে হবে।

 হুন্ডির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণের অর্থ পাচার করা যায় না-জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দেশের সিংহভাগ অর্থ পাচার হয়ে থাকে ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে ব্যাংকিং চ্যানেলে। আমরা রাজস্ব বোর্ডের কাছে ওভার ইনভয়েসিংয়ের এক মাসের তালিক চেয়েছি।  কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য আমরা আজ পর্যন্ত এই তালিকা পাইনি। এই তালিকা পেলে প্রয়োজনে তালিকা ধরে আইনি ব্যস্থা নেওয়া হবে।
দুর্নীতি প্রতিরোধে গণমাধ্যমের ভূমিকার ভূয়শী প্রশংসা করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, গণমাধ্যম কমিশনের অকৃত্রিম বন্ধু এবং অংশীদার। অতীতে প্রতিটি ক্ষেত্রে কমিশন যেভাবে গণমাধ্যমের সমর্থন পেয়েছে তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ইটিভির প্রধান নির্বাহী মনজুরুল আহসান বুলবুল এর সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় অন্যন্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দুদক কমিশনার ড. মোঃ মোজাম্মেল হক খান, এএফ এম আমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, ৭১ টিভির ব্যাবস্থাপনা পরিচাল মোজাম্মেল হক বাবু, যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, জিটিভির নির্বাহী সম্পাদক ইশতিয়াক রেজা প্রমুখ।


Share with :

Facebook Facebook